জবি সি ইউনিটের সাক্ষাৎকার স্থগিত

জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট নেটওয়ার্ক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সি-ইউনিটের ২০১২-২০১৩ শিক্ষাবর্ষে বিবিএ প্রোগ্রামের সাক্ষাৎকার স্থগিত করা হয়েছে।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ এর ডীন প্রফেসর ড. এম. আবু মিছির এর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয় বিবিএ প্রোগ্রামের জন্য নির্ধারিত সংখ্যক আসনের মনোনয়ন সম্পন্ন হওয়ায় ১৭/০১/২০১৩ ইং তারিখে নির্ধারিত সাক্ষাৎকার স্থগিত করা হল।

উল্লেখ্য যে, আসন খালি থাকা সাপেক্ষে সাক্ষাৎকারের পরবর্তি সময়সূচী ডীন অফিসের নোটিশ বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটের মাধ্যমে জানানো হবে।

জবিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরান্বিত করার দাবি উদীচীর

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত কার্যকর করা ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিতে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেছে উদীচী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ।

গতকাল সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যায়ের ভাস্কর্য চত্বরে এই অনুষ্ঠানে সংহতি জানান, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকসহ আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান জবি শাখা, জবি চলচ্চিত্র সংসদ, ছাত্রলীগ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্রমৈত্রীসহ বিভিন্ন সংগঠন।

সংহতি প্রকাশ করে জবি ট্রেজারার অধ্যাপক মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, দ্রুত যুদ্ধাপরাধের বিচার না করা না গেলে ১৯৭১-এ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, ধর্ষিত, নিহত নারীর আত্মা শান্তি পাবে না। জাতি কলঙ্কমুক্ত হবে না। তাই দ্রুত এই বিচার শেষ করতে হবে। আরো বক্তব্য রাখেন ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার গোস্বামী, অধ্যাপক ড. হোসনে আরা জলি প্রমুখ। ব্যক্তিগত কাজে এসে সংহতি প্রকাশ করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগ কেন্দীয় সংসদের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ। 

দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে যুদ্ধাপরাধের বিচারের পক্ষে গান, কবিতা আবৃত্তি, নাটক পরিবেশন করে উদীচীর শিল্পীরা।

জবিতে ‘বি’ ইউনিটের সাক্ষাৎকারে ব্যাপক অনিয়ম

মো. ইউসুফ আলী, ঢাকা টাইমস
..........................................................................................

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির সাক্ষাৎকারে ‘বি’ ইউনিটের বিষয় বণ্টনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার ও সোমবার দুই দিনে কলা অনুষদভূক্ত ‘বি’ ইউনিটের সাক্ষাৎকারে এ অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। সকল শর্ত পূরণ করার পরও অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে কাঙ্খিত বিষয় দেওয়া হয়নি। আবার অনেকে শর্ত পূরণ না করেও মেধা তালিকায় পেছনে থেকেও ভালো বিষয় পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীরা জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি ইউনিটের অধীনে ছয়টি অনুষদের ভর্তির সাক্ষাৎকার শুরু হয় রবিবার। এ, বি, সি ও ডি ইউনিটের এ সাক্ষাৎকারে কলা অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের সাক্ষাৎকারে বিষয় বণ্টনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে।

জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষায় ‘বি’ ইউনিটে মেধাক্রম পঞ্চম, ৪১তম, ৪৩তম, ৪৮তম, ৯৩তম, ও ১০৬তম স্থান অধিকারীদের আইন বিষয় পাওয়ার কথা থাকলেও তাদেরকে কাঙ্খিত বিষয় দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল ওদুদ সাংবাদিকদের কোন স্পষ্ট জবাব দিতে পারেনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চলতি বছর প্রকাশিত ভর্তির নির্দেশিকায় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে, বাংলা ও ইংরেজি বিষয় পেতে হলে তাদের এইচএসসি/আলিম শ্রেণীতে ২০০ নম্বরের ইংরেজি ও বাংলা পড়ে আসতে হবে। কিন্তু আইন, সাংবাদিকতাসহ অন্য কোন বিষয়ে এ শর্ত না থাকলেও ডীনের স্বেচ্চাচারিতার কারণে তারা মাদরাসা শিক্ষার্থীদেরকে আইন, সাংবাদিকতা, অর্থনীতিসহ ভালো কোন বিষয় না দিয়ে শুধু মাত্র ইসলামিক স্টাডিজ বিষয় দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানায়। ভাইভাবোর্ডের কয়েকজন সদস্য এর প্রতিবাদ করলেও ডিন একক সিদ্ধান্তে তিনি এ শিক্ষার্থীদেরকে বঞ্ছিত করেন।

এদিকে রবিবার সাক্ষাৎকারের প্রথম দিনে আটজন শিক্ষার্থীকে ইংরেজি বিষয় দেওয়া হলেও সোমবার তাদেরকে বিষয় পরিবর্তন করে আবার বাংলা দেওয়া হয়েছে।

এ প্রশ্নে জবাবে সংশ্লিষ্ট ডিন কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। অভিযোগ পাওয়ার পর সংবাদ কর্মীরা ডিনের সাথে দেখা করতে সরেজমিন গেলে দেখা যায়, ভাইভা বোর্ডের ভিতরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি এফএম শরীফুল ইসলাম বোর্ডের সদস্যদের সাথে বসে রয়েছে। তার পাশে অনন্ত ১৫জন ছাত্রলীগ কর্মী ওই বোর্ডে বসে আছেন। যা সম্পূর্ণ নিয়ম বর্হিভূত বলে ভাইভাবোর্ডের একাধিক সদস্য মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি শরীফুল ইসলাম বলেন, একটি ছাত্রীর কাঙ্খিত বিষয় ডিন অফিস থেকে না দেওয়া হলে আমি জানতে সেখানে গিয়েছিলাম।

ভুুক্তভোগী শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমার মেধাক্রম ৪১তম, এইচএসসিতে ইংরেজিতে আমি ‘এ’ প্লাস, বাংলায় ‘এ’ মাইনাস পেয়েছি। আইন বিষয় পেতে আমার সকল যোগ্যতা থাকার পরও আমাকে আইন দেওয়া হয়নি। আমাকে ইসলামিক স্টাডিজ দেওয়া হয়েছে। আমাকে কাঙ্খিত বিষয় না দেওয়ায় আমি রিট করার চিন্তা ভাবনা কর

ফি প্রত্যাহারের দাবিতে জবিতে আন্দোলনে পুলিশের হামলা: আহত ২০

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট নেটওয়ার্ক 
উন্নয়ন ফি প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল সোমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যংক অবরোধ করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। এ সময় পুলিশি বাধায় অন্তত ২০জন আহত হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সোয়া ১০ টায় ছাত্রজোটের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় ভাস্কর্য চত্তর থেকে মিছিল নিয়ে অগ্রণী ব্যাংকের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তিতে ফারুক আহমেদ আবীর, আল আমীন, লাকি আক্তার সহ প্রায় ২০জন আহত হন। গত বছর ভর্তির সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উন্নয়ন ফি বাবদ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে। তখন ছাত্ররা ফি প্রত্যাহারের দাবি জানায়। প্রশাসনের সঙ্গে ছাত্রদের আলোচনা সাপেক্ষে ২ হাজার টাকা কমানো হয়। এবং বাকি তিন হাজার টাকা ২০১২-১৩ সেশনে ভর্তির সময় থেকে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চলতি বছরেও ভর্তির ক্ষেত্রে ৩ হাজার টাকা উন্নয়ন ফি ধার্য করেছে। তাই পরশু থেকে আন্দোলন এবং বিক্ষোব মিছিল করে আসছে ঐ সংগঠনের কর্মীরা। অবরোধ শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, দাবী মানা না হলে অবরোধ কর্মসূচী চলতে থাকবে।

প্রক্টর অশোক কুমার শাহা বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভর্তিচ্ছুদের টাকা জমা দিতে বাধা দেওয়ায় পুলিশ সদস্যরা ধর্যের সাথে তাদের প্রতিহত করে। কোন হতাহতের ঘটনা সেখানে ঘটেনি। আন্দোলনের নামে ব্যাংক অবরোধ করা আইনবিরোধী। তবে, যেকোন ছাত্রসংগঠন প্রশাসনের সাথে আলোচনায় বসতে চাইলে প্রশাসন তাদের সাথে বসবে। বিশৃঙ্খলা কোন আন্দোলনের রূপ হতে পারেনা।

এ বিষয়ে ট্রেজারার, অধ্যপক মো: সেলিম ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ছাত্রদের সাথে দ্রুত আলোচনায় বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রেজিষ্ট্রার প্রকৌশলী ওহেদুজ্জামান বলেন, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য আগামীকাল (আজ) থেকে অগ্রনী ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সহ ইসলামপুর শাখায় ও টাকা জমা দেওয়া যাবে।

জবিতে উন্নয়ন ফি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট নেটওয়ার্ক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবর্ষ ভর্তিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া উন্নয়ন ফি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলসমাবেশ করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। গতকালার বেলা ১টায় মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে সমাবেশ করে ঐ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, গত বছর ভর্তির সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উন্নয়ন ফি বাবদহাজার টাকা নির্ধারণ করে। তখন ছাত্ররা ফি প্রত্যাহারের দাবি জানায়। প্রশাসনের সঙ্গে ছাত্রদের আলোচনা সাপেক্ষেহাজার টাকা কমানো হয়। এবং বাকি তিন হাজার টাকা ২০১২-১৩ সেশনে ভর্তির সময় থেকে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চলতি বছরেও ভর্তির ক্ষেত্রেহাজার টাকা উন্নয়ন ফি ধার্য করেছে। সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে উন্নয়ন ফি বাতিলের দাবি জানান।

বিষয়ে ট্রেজারার, অধ্যপক মো: সেলিম ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। আমরা ছাত্রদের সাথে দ্রুত আলোচনায় বসব। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু ভাবে প্রথমদিনের সাক্ষাতকার গ্রহণ করা হয়েছে। ভর্তির বিষয়ে যেকোন ধরনের দূর্নীতি কঠোর হস্তে দমন করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশন।