এবার ধর্ষিত ও খুন হল আমাদের জবি ছাত্রের আপন ছোট বোন
ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা আবার ময়না তদন্তের নির্দেশ
ফরিদপুর সদর উপজেলার কাশিমাবাদ গ্রামের নবম শ্রেণীর এক মেধাবী ছাত্রীকে
উত্ত্যক্ত করা হতো। প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বিয়ের। প্রত্যাখ্যান করেন
বাবা-মা হারা মেয়েটির চাচা। ওই মেয়েটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে
দেওয়া হয় বিশাল মেহগনি গাছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা করেন মেয়েটির ভাই।
গ্রেপ্তার করা হয় দুজনকে। কিন্তু ময়নাতদন্তের সময় মেয়েটিকে হত্যা ও ধর্ষণের
কোনো আলামত পাননি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক অঞ্জন
কুমার দাস। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ফরিদপুরের বিচারিক
হাকিমের আদালতে আবার ময়নাতদন্তের আবেদন করেন বাদী। এ আদালতের হাকিম
আবদুল্লাহ আল মাসুদ গত বৃহস্পতিবার আবার ময়নাতদন্তের জন্য জেলা
ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আবার
ময়নাতদন্তের জন্য জাকিয়ার মরদেহ আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে
কবর থেকে তোলা হবে। এদিকে কবর থেকে মেয়েটির মৃতদেহ দুই দফায় চুরির চেষ্টা
করে দুর্বৃত্তরা। কিন্তু গ্রামবাসীর পাহারার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
মেয়েটির নাম জাকিয়া আক্তার চম্পা (১৪)। সে পরদিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের নবম
শ্রেণীর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ছাত্রী। ক্রমিক নম্বর দুই। তার মা ফাতেমা
বেগম মারা গেছেন ২০০৪ সালে। বাবা জাহাঙ্গীর মিয়া মারা গেছেন ২০১০ সালে।
মেজো ভাই মো. শহীদুল ইসলাম ও জাকিয়ার চাচা হুমায়ুন মিয়ার সংসারে থেকে
পড়াশোনা করছিল। মেয়েটির বড় ভাই মো. হাসিবুল ইসলাম ঢাকায় জগন্নাথ
বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করছেন। মামলার বাদী
হাসিবুল ইসলাম বলেন, তাঁদের বাড়ি থেকে ২০০ গজ দূরে উলুকান্দা গ্রামের সালাম
মাতুব্বরের বাড়ি। সালামের বেয়াই শামীম মণ্ডল (২২) ছয়-সাত মাস ধরে তাঁর বোন
জাকিয়াকে উত্ত্যক্ত করাসহ তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
জাকিয়ার আরেক চাচা মো. আলমগীর মিয়া বলেন, ‘গত ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় শামীম ও
সালাম মাতুব্বরের শ্যালক আবুল খাঁ এসে জাকিয়ার সঙ্গে শামীমের বিয়ের
প্রস্তাব দেন। আমি এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে আবুল খাঁ হুমকি দিয়ে বলেন,
‘কথাডা রাখলে ভালো করতেন। ভাবতেও পারবেন না এর পরিণতি কী হতে পারে।’
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় প্রতিবেশী সালাম
মাতুব্বরের স্ত্রী পারভীন বেগম জরুরি কাজের কথা বলে স্কুলছাত্রী জাকিয়াকে
বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। ওই দিন জাকিয়ার এক চাচাতো বোনের গায়েহলুদের অনুষ্ঠান
চলছিল। জাকিয়ার পরনেও ছিল হলুদ রঙের শাড়ি। পরদিন বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার
দূরে মেহগনির বাগানে একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় জাকিয়ার মৃতদেহ পাওয়া যায়।
পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।
জাকিয়ার মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার
উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান। বৃহস্পতিবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন,
‘মৃতদেহে আঘাতের দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন পাওয়া না গেলেও ধর্ষণের আলামত পাওয়া
গেছে। এ কথা আমি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছি। তা ছাড়া লম্বা মেহগনি গাছে লাশটি
ঝুলতে দেখা যায়। এই বয়সী একটি মেয়ে ওই গাছে উঠে গলায় ফাঁস দেবে, তা কল্পনা
করা যায় না। মেয়েটির জুতা ওই গাছ থেকে ২০ গজ দূরে পাশাপাশি পরিপাটি
অবস্থায় দেখা গেছে; যা অস্বাভাবিক।’ ময়নাতদন্তের পর জাকিয়ার মৃতদেহ
গোসল করান কাশিমাবাদ গ্রামের রুবিয়া খাতুন (৬০) ও আম্বিয়া খাতুন (৪৮)।
তাঁরা প্রথম আলোকে বলেন, ‘জাকিয়ার শরীরে ধর্ষণের আলামত ছিল সুস্পষ্ট।’
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আ স ম জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, ‘চিকিৎসক
অঞ্জন কুমার দাসের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর আমি তাঁর
সঙ্গে তিন দফা কথা বলেছি। প্রতিবারই তিনি বলেছেন, তিনি তদন্তকালে যা
পেয়েছেন, তা-ই উল্লেখ করেছেন।’ গত বুধবার সরেজমিনে কাশিমাবাদ গ্রামে
গিয়ে দেখা যায়, উলুকান্দা-কাশিমাবাদ গ্রামীণ সড়কের পাশে পারিবারিক
কবরস্থানে জাকিয়ার কবর। বাড়ি থেকে বিদ্যুতের তার টেনে কবরস্থান আলোকিত করার
ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই গ্রামের মো. মাসুদ মিয়া বলেন, ‘২৪ ডিসেম্বর
রাত থেকে কবরটি পাহারা দিচ্ছি। এর মধ্যে ২৮ ডিসেম্বর রাত ১২টা ও ১ জানুয়ারি
ভোর চারটার দিকে মাইক্রোবাসে করে আট-দশজন লোক কবরের কাছে এসেছিল। আমরা
ধাওয়া দেওয়ায় তারা পালিয়ে যায়।’ কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি)
চেয়ারম্যান ফকির বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার না হলে
এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে। চিকিৎসকেরা সমাজে হেয়প্রতিপন্ন
হবেন। তাই মেয়েটির লাশের পুনরায় ময়নাতদন্তের প্রয়োজন।’ মামলা ও
গ্রেপ্তার: জাকিয়া হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই আবুল
খায়ের মোল্লা বলেন, ‘মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি আবুল খাঁ (৩২) ও হাসেম
খাঁকে (২৮) ১৫ ডিসেম্বর রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এক দিনের পুলিশি
রিমান্ডে তাঁরা কিছু তথ্য দিয়েছেন। তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে
তাঁদের আবার রিমান্ডে আনা হবে।’ এজাহারভুক্ত অন্য চার আসামিসহ দোষীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান এসআই।
ধিক্কার জানাই এই সব নর-পশুদের এবং সহযোগী ডাক্তার রুপী সম-অপরাধীচক্র এবং এদের পৃষ্ঠ পোষক দের কে। মানুষ যদি তাদের ন্যায় বিচার থেকে এইভাবে বঞ্চিত হয়, তবে আইনকে নিজেদের হাতে তুলে নিতে গণ-জোয়ার বইবে।
ধিক্কার জানাই এই সব নর-পশুদের এবং সহযোগী ডাক্তার রুপী সম-অপরাধীচক্র এবং এদের পৃষ্ঠ পোষক দের কে। মানুষ যদি তাদের ন্যায় বিচার থেকে এইভাবে বঞ্চিত হয়, তবে আইনকে নিজেদের হাতে তুলে নিতে গণ-জোয়ার বইবে।
ReplyDelete